In Memory of a Famous Personality: Sri Nalini Kanto Sarkar

শ্রী নলি নী কান্ত সরকার স্মৃতি চারণ

প্রথম ঘটনা:-

শ্রী অরবিন্দ আশ্রম…সঙ্গীত শিক্ষা কেন্দ্রে’র মধ্যে সাজ সাজ একটা ব্যাপার…গ্রামোফোন কোম্পনি থেকে সাহানা দেবী ‘র কিছু গান রেকর্ড করে নিয়ে যাবে…সেই মতো সবাই প্রস্তুত…টান টান একটা চাপা উত্তেজনা বসে থাকা বাচ্চা ‘দের মধ্যে…কিছু গান `সোলো’ রেকর্ড হবে, বাকি গুলো `কোরাস’; তাই তারা ও এসে বসে আছে…সব ক’টা জানালা বন্ধ করে বড় বড় কার্পেট ঝুলিয়ে দেয়া হযেছে…বাইরের শব্দ যেন ঢুকতেনা পারে…সেই সময় `সাউনড প্রূফ’ কর বার জন্যে এই ব্যাবস্থা ই নেয়া হত…যাক সে কথা…দরজা দিয়ে প্রথমে সাহানা দি ঢুকচ্ছেন, পেছন পেছন ন্লিনী দা…তাঁর দুই হাতে তবলা ধরে…ঘর ঢুকে পুরনো কার্পে ট গুলো থেকে বেরুনো বিচ্ছিরি সোদা গন্ধএ সাহানা দি নাক কুঁচকে বলে উঠেছেন – `ইস,! কার্পে ট ‘এর গন্ধে টেঁকা দায়’…সঙ্গে সঙ্গে ন্লিনী দা বলে উঠলেন – `বিশ্বাস কর, অন্তত আমার পেটের গন্ধে নয়’….সমস্ত ঘরে চাপা একটা হাসি’র রেশ ছড়ইয়ে গেল…স্তমভিত সাহানা দি বকুনি দিলেন – `কী হচ্ছে, বাচ্চারা বসে আচ্ছে না?’

* * * * *

ঘটনা নং দুই:

স্থান সেই শ্রী অরবিন্দ আশ্রম, পনডিচেরি…একটি গানের অনুষ্ঠান হবে, অনেকে এসে বসে আছেন…এক নতুন আসা সাধক সমবেশে ঢুকেছেন…ইনি ও মাঝে মাঝে বাচ্চাদের গান শেখানোর ক্লাস নিচ্ছেন…তাঁকে দেখেই ন্লিনী দা বলে উঠেছেন – `কী হে, আজ কাল শুনি তুমি তোমার ছাত্র ছাত্রী ‘ দের দিয়ে গা – টেপাচ্ছ, পা – টেপাচ্ছ?’ সভার মাঝে একটা মৃদু গুঞ্জন শুরু হল; সাধক টি তো হ্তবাক্. তিনি কোনোমতে বলতে পেরেছেন – `দাদা, আপনি আমার গুরু জন, আপনি এমন কথা বল্ছেন’! ন্লিনী দা আবার বলে উঠেছেন – `আরে আমি নিজের কানে শুনেছি’. উপস্থিত যাঁরা ন্লিনী দা’কে ভালো মতো চেনেন, তাঁরা কিছু টা এবারে আন্দাজ করতে পেরে হাসি মুখে তাকিয়ে আছেন সাধক টির তখন চোখে জ্ল আসার উপক্রম হএছে…ন্লিনী দা সরবে এবারে বললেন – `আরে বাবা, কেন তুমি কে ও দের গান শেখাতে গিয়ে `গা- টিপ তে, পা-টিপ তে বল না? আমি তো সে কথাই বলছিলাম’…সবার মধ্যে হাসা হাসি…সাধক টি স্বস্তি’র নিশ্বাস ফেলে এগিয়ে এসে ন্লিনী দা’র পায়ের ধুলো নিলেন

** ** ** ** **

ঘটনা নং তিন :-

ন্লিনী দা’র উপস্থিত বুদ্ধি আর মজ আ করবার আরেক টি ঘটনা’র উল্লেখ করে এই স্মৃতি চারণ শেষ করছি…ইনি শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে ও ভালো ভাবে তালিম নিয়ে ছিলেন আর রবীন্দ্র সঙ্গীত ভালো গাইতে পারতেন…রবীন্দ্র নাথ এর গান সম্পর্কে ইনি খুব উঁচু ধারণআ পোষন ক্র্তেন…এ বিষয়ে তর্ক’এ নামতে ইনি পিছ-পা হতেন না…একবার এক গানের জ্ল সা’তে এক ত্দ-কালীন উস্তাদ এর সঙ্গে তাঁর ম্তনৈক্য ঘটে. উস্তাদ টি বারে বারে রবীন্দ্র সঙ্গীত এ কারু কার্য কিছু নেই, শুধু কথা, ও গান তো যে কেউ গাইতে পারে – এ সব বলে যাচ্ছিলেন…ন্লিনী দা’ প্রথম টায় শান্ত ভাবে ওই উস্তাদ কে বোঝান যে, ভাষার সৌন্দর্যয় আর সুরের সুসম সমন্বয় কী ভাবে রবীন্দ্র সঙ্গীত কে এক অনন্য রূপ দিয়ে ছে; যার তুলনা শাস্ত্রীয় গানে কোথা ও নেই…উস্তাদ এর মুখের বাঁকা হাসি ত্খনো দেখে এবারে তাঁকে চ্ম্কে দিয়ে একটি ধ্রূপদ গান শুরু করেন…মুনসিয়ানা’র বা গলার কারুক্ৃতি’ এর কোন খুঁত সে গানে ছিল না, বেশ মাথা দুলিএয় উস্তাদ গান টি শুনে যান…শেষে ন্লিনী দা তাঁকে প্রশ্ন করলেন – `আমি কী গেয়েছি আপনি বুঝতে পেরে ছেন?’ `নিশ্চয়ই, তুমি একটি ধ্রূপদ গেয়েছ, আর মান তেই হবে, যে তুমি বেশ ভাল গেয়েছ’…এবারে প্রশ্ন – `আমার আলাপ চারি’তে কী ভাষা ছিল, তা বুঝতে পেরে ছেন?’ উস্তাদ’কে স্বীকার করতেই হল যে তা তিনি পারেন নি…এবারে তুরুপের তাস ছাড়লেন ন্লিনী দা -` আমি সুর তাল সব অবিকৃত রেখে এটা বলেছি “শালার ব্যটা শালা তুই আমার কী করতে প৅রিস?’ স্বভাব তঃ উস্তাদ এর মুখ তখন লাল রঙ্ এ চ্ছেয়এ গেচ্ছে…একটু ও না ঘাব্ড়এ গিয়ে ন্লিনী দা বলে গেলেন -`এটা থেকে প্রমান কী হচ্ছে না, যে ভাষা’র মধুরতা গানের সুন্দরতা কে বাড়ি এ তোলে? যেটা রবীন্দ্র সঙ্গীত’ এর বিশ্েষত্ব? যেটাআপনি মানতে রাজী হচ্ছিলেন না?’ উস্তাদ এর মুখে তখন আর কথাটি নেই!

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s