অটল – পটল উপাখ্যান (The Story of Atol & Potol)

অটল চাঁদ আর পটল চাঁদের গল্প

 

অটল – পটল উপাখ্যান – I

এঁদের মধ্যে`বাবা’ হচ্ছেন অটল চাঁদ; সাধারণ সরকারী আপিসে বড় কেরানী ‘র চাকরী করেন; নিজে স্কুলে পড়েছেন ক্লাস ফোর পর্যন্ত; ছেলে পটল সবে ক্লাস সিক্স এতে উঠেছে, তাই তিনি মনে মনে একটু চিন্তিত থাকেন, কখন জানি সে পড়তে চ্লে আসে তাঁর কাছে…মাস্টার রেখে ছিলেন, কিন্তু তিনি জবাব দিয়ে চলে গেছেন সম্প্রতি, কেন সে টা বলার মতো.

এই তো পর্শু দিনের কথা; মাস্টার এসে উনা’র সামনে একটা খাতা মেলে ধরে দেখালেন…প্রথমে বাঁশ নিয়ে রচনা; পটল লিখেছে :-

`বাঁশ খুব কাজে লাগে; বাড়ি ঘর বানাতে; তাকে বংশ ও ব লা হএ থাকে  আবার যদি বংশ-ধর’এরা বেয়াদ্প হতে যাচ্ছে, তখন তাদের শায়েস্তা করতে এই বাঁশ খুব কাজে আসে’

এই দেখে অটল গম্ভীর হলেন – `আর দেখতে হবে না, বোঝা যাচ্ছে ওর `বংশ-তত্ব’ বেশ আয়ত্বে এসে গেছে…

মাস্টার ও গম্ভীর হলেন – `আর এবারে এটা; আমি ওকে স্কুলের হেড মাস্টার মশাই’এর কাছে দুই দিনের ছুটির আবেদন লিখতে বলে ছিলাম, শুনুন কী লিখেছে সে: –

: My Dear Headmaster Jaglal Babu,

   Pl. grant me two days leave. If you not, then let me remind you that your school approach road is getting repaired. Many stone chips will be available there for my use.

 

 

Yours sincerely,

Potolchand Sorkhel

 

N.B: Private tutor obviously took offence in such language and left his job that day only

 

খাতা সামনে ফেলে মাস্টার উঠে দাঁড়া লেন – `আমার দ্বারা হবে না, আপনি অন্য ব্যাবস্থা দেখুন’ অটল অনুনয় করে বার্ষিক পরীক্ষা টা কাটিয়ে যেতে বলে ছিলেন, মাস্টার তাতে কোন কান দেন নি তাই সেদিন থেকে অটল ভযে ভযে আছেন…

ছেলে খুব প্রশ্ন করে; যেমন সেদিন এসে বলে কী – `বাবা, তোমার নাম অটল কেন হল বল তো?’ উনি তো কিছু ভেবে পান না…শেষ এ ছেলে বিজযীর হাসি দিয়ে বলে কী – `আমি জানি, `নো-ট্ল’ থেকে `অটল’ তুমি যে লম্বা নও আর হবেও না তা নামেই প্রমাণ’ …চিন্তা করে দেখলেন বিচ্ছু টা খুব ভুল বলে নি, তিনি সত্যই মাত্র সাড়ে চার ফুটের সেদিকে ছেলে এখন ই তাঁর মাথা থেকে খানিক লম্বা হয় গেছে!

 

অটল – পটল উপাখ্যান – II

ছেলে’কে নিয়ে চিন্তা করতে করতে ই অটল অফিসের পথে রওনা হলেন…স্ত্রী নিত্য কালী ভাত খেতে বসার সময় স্বামী’কে চুপ চাপ দেখে কারণ জানতে চেয়ে ছিলেন – `মাস্টার ও রকম ঝড়ের বেগে চ্লে গেলেন কেন গো?’ সংক্ষেপে অটল জানালেন – `উনি আর পটল কে পড়া’তে পারচ্ছেন না, তাই’ …ঘটনা’র গুরুত্ব না বুঝে সোজা স৅প্টা মানুষ নিত্য কালী ছেলে’র প্রতি অপত্য স্নেহে বলে উঠেছেন – `কতো বুদ্ধি আমাদের ছেলেটা’র! তুমি তাহলে একটা নতুন মাস্টার দেখে দাও’. শুধু `হুঁ’ বলে চ্লে এসেছেন…কাজের মধ্যে মধ্যে এই চিন্তা তাঁকে শান্তি’তে থাকতে দিচ্ছে না…`কী হবে ছেলেটা’র কপালে?’ তাঁর নিজের থেকে ছেলে পড়ানো সম্ভ্ব না…তিনি কী করেন! এই তো মাস খানেক আগের কথা; এক সকালে দাড়ি কামা তে সবে বসেছেন, ছেলে খাতা নিয়ে হাজির – `বাবা, এই অঙ্ক তিনটে একটু বুঝিয়ে দেবে?’

 

মনে মনে `কালী কালী’ স্মরণ করে অটল হাত বাড়িয়ে ছিলেন – `দাও দেখি’…প্রথম টা তে `এক টা বাঁশের এত ভাগ জলে, এত ভাগ কাদা’য় আর বাকিটা 2 মিটার হলে পুরো বাঁশ টির দৈর্ঘ্য কত?’ এক মুহুর্তে অটল’এর মাথা ঝিম ঝিম করে উঠে ছিল; যেন বাঁশ টা পুকুর থেকে স-বেগে তাঁর মাথা’য় সোজা এসে পড়েছে! যা ঘিলু টিল্যূছিল, সব বাইরে পড়ে আছে..

 

অটল – পটল উপাখ্যান-III

…মুখে অবিচলিত ভাব বজায় রেখে 2 নংঅঙ্ক’এর দিকে তাকালেন – `বাবা ও ছেলে’র বয্স ‘এর যোগ ফল এত বছর…5 বছর আগে সেটা এত ছিল…দু জনের বরতমান বয়স কতো হবে?’

প্রচুর সময় ব্যয় করে টাকের ঘাম মুছে তাঁর হাতে এই উত্তর এল : – বাবা’র বয়স 22, ছেলে’র 58! `এই তো, সহজ ছিল এটা’ বলে পটলের দিকে খাতা তা বাড়িয়ে ধরলেন…পটলের মুখে একটা কিন্তু কিন্তু ভাব ফুটে উঠে ছিল – `বাবা’র থেকে ছেলের বয়স যে বেশি দেখাচ্ছে’? সেটা অট্ল নিজেও দেখে ছিলেন কিন্তু করেন আর কী? তাই ছেলে’কে আস্বস্ত করতে বলে ছিলেন – `তাতে কী হএছে, অংকের বাবা তো, আসল বাবা তো নয়’ বলেই আর এক মুহুর্ত সময় না বসে স্ত্রী নিত্য কালী’র উদ্দেশে `কই গো, হল রান্না তোমার, আমার অফিসে’র দেরি হয় যাচ্ছে’ বলেই বাথরুমের দিকে দৌড় লাগিয়ে ছিলেন…

এভাবে আর কতো এড়াতে পারা যায়…হাফ-ইয়ারলি’র রেজাল্ট ততো ভালো কিছু হয় নি পটলের; মাঝে এক দিন অধ্যক্ষ হেরাল্ড বেনেট এর অফিস থেকে উনার কাছে চিঠি ও এসে ছিল…স্ত্রী’কে সেটা তিনি জানান নি…জানা গেছে যদি পটলের পড়া-শোনা এভাবেই চ্লে, বাত্সরিক পরীক্ষা তে সে পাস করা প্রায় অসম্ভব হয় যাবে…একমাত্র সন্তআন, ছেলে’কে যথাসাধ্য আদর দিতে কোন কার্পণ্য করেন না, নিত্য কালী’র তো কথাই নেই…স্কুলের অফিস থেকে আরও কিছু কথা তাঁর কানে এসেছে – মাঝে মধ্যে পটল কে স্কুল চলা’র সময় বাইরে ঘুরতে’ও দেখা যাচ্ছে…ওর ই এক সম বয়সের সহ পাঠই বংশী’র সঙ্গে…ছোট বয়সে একটু আধ-টু দুষ্টুমি সবাই করে তাহলে ও ঘটনা’তা উনি একেবারে উড়িয়ে দিতে পারেন নি…শুনে অটলের একটু ও ভালো লাগে নি…তাই ঘরে পড়ানো’র মাস্টার ও ঠিক এমন মোক্ষম সময় ছেড়ে চ্লে যেতে নিজেকে দিশে হারা আর অসহায় বোধ কর ছিলেন অটল

 

অটল – পটল উপাখ্যান-IV

কম কষ্ট করে অটল ছেলে’কে এই ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে ভ্র্তি করতে পেরে ছিলেন! সাধারণত ওরা ছাত্র নেবার আগে বাবা-মা দুজনের’ই সঙ্গে কথা বলে দেখে; উনি একাই গিয়ে ছিলেন; প্রিন্সিপাল’এর কামরা’তে দুরু দুরু বুকে ঢুকেছেন; টেবিলের কাছে গিয়ে ভ্দ্র্লোকের মুখে’র দিকে তাকিয়ে তিনি হ্তভম্ব! এ তো তাঁর ছোট বেলা’র স্কুলের পরিচিত – হারাধন বারুজ্যে?? তাহলে দরজাতে যে `হারোল্ড বেনএট’ লেখা আছে! তিনি `হারাধন তুই…’ সবে মুখে উচ্চারণ করেছেন, তাড়াতাড়ি ভদ্রলোক মুখে আঙ্গুল তুলে ইশারা করলেন চুপ করতে…উঠে এসে নিজের হাতে কামরা’র দরজাটা বন্ধ করলেন…তার পরে অটল কে হাত ধরে সামনের সোফা’তে বসিএ নিজেও পাশে বসলেন…ক্রমে অটল জানলেন যে সত্যই উনি তাঁর ছোটো বেলা’র সেই পরিচিত হারাধন! কিন্তু এখানে ওই নাম অচল – ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে হারাধন নাম নিয়ে বসলে কেউ পাত্তআই দিত না, তাই নাম পাল্টে `হারল্ড বেনেট’ হতে হয় ছে…`এ সব কথা যেন জানা জানি না হয়, আমি খুব বড় কন্সেসন দিয়ে তোমার ছেলে’র সব ব্যাবস্থা করে দিচ্ছি’…তোমার কোন রকমে অসুবিধে হবে না’ …বস্তুত সেটাও একটা কারন যে পটল  এর নাম এখনও স্কুলের খাতায় আছে কিন্তু এভাবে আর কত দিন চলবে?

এদিকে অটল চাঁদ যতক্ষণে ছেলে আর অফিস নিয়ে নানা ভাবনা চিন্তা’য় ব্যাস্ত, পটল তার প্রাণের সহ পাঠই বংশীর খোঁজে বেড়িযেছে…

 

 

অটল – পটল উপাখ্যান-V

…তাদের’ই পাড়া’য় একেবারে পেছ্নের দিকে বংশীর বাড়ি, মানে তার বাবা’র ছোটো কোয়ার্টার…বাড়িতে পটল কখনও যায় নি…শুধু কথা প্রসঙ্গে জানে যে তার ছোটো ছোটো ভাই বোন আছে আর মা’ও.. .স্কুলের মাঠ’ এতেই তাদের দেখা শোনা, বাড়িতে কখনও যাবার দরকার তো হয় নি…কিন্তু তিন দিন পার হচ্ছে আজও সে আসে নি কেন, জানতে পটল অধীর হয় পড়েছে…এমন টা তো বড় একটা হয় নি! খুঁজতে খুঁজতে সে প্রায় অচেনা দিকে এসে পড়েছে,  আসে পাশে যত দেখছে সে, খালি গায়ে মলিন, রং চটা বা একেবারে ছেঁড়া জামা পরা বাচ্চা বা ছেলেরা, তার মতো মা’এর  হাতে যত্ন করে কাচা ইস্ত্রি করা ধপ্ ধপে স্কুলের পোষাক তো কারো গায়ে নেই…একেবারে অচেনা জায়গাতে নিজেকে কেমন যেন অসহায় বোধ করছিল এবারে পটল…অসহায় আর কেমন যেন বে -মানান…কোথায় বংশী? মরিয়া হয় একটু বযস্ক এক জ্ন কে দেখে এবারে তার কাছেই বংশী’র বাড়ি’র রাস্তা জানতে চাইল…লোক টা কেমন একটা অদ্ভ-উত্ ভাবে ওর দিকে তাকাল, তার পরে মুখে কিছু না বলে ডান হাত খানা দিয়ে গলি’র শেষে’র কোণে’র বাড়ি’টা দেখিয়ে দিল…প্রায় এক দৌড়ে পটল সেখানে পৌঁছে গেছে, দরজাতে অধীর ভাবে জোরে কড়-আ ধরে নেড়েছে…একটু বাদেই দরজাটা খুলে গেল; যে খুলল, তার মুখ দেখে পটল বিস্ময়ে হত বাক্! এ তো বংশী! কিন্তু এ কী চেহারা হযেছে তার বন্ধউ’র! চোখ কান্নায় ফোলা, চুল উসকো-খুস্কো…বংশী নিজেও পটল কে দেখে ভারি অবাক হয় গেছে – প্রথম পটল ই কথা বল্ল – `কী রে বংশী, তিন দিন হয় গেল, স্কুলে আসিস নি কেন’? বংশী’র উত্তর আস বার আগেই ভেতর থেকে মেয়েলি গলা তে চাপা কান্না’র শব্দ ভেসে এল…চট করে পটলে’র হাত খানা নিজের হাতে চেপে ধরে নিয়ে বংশী `বাইরে চ’ বলে দরজাটা পেছ্নে ভেজিয়ে দিল…অবাক পটল কিছু বল বার সুযোগ পেল না…

 

অটল – পটল উপাখ্যান – VI

বাড়ি’র সামনে দাঁড়িয়ে থাকা কিছু স্থানীয় কৌতুহলী মানুষের ভিড় ঠেলে বংশী পটলের হাত ধরে একটু খালি জায়গাতে এসে দাঁড়াল…ততো ক্ষণে সন্ধ্যা প্রায় নেমে এসেছে কিন্তু ল্যাম্প পোস্টের খানিক আলো আছে সেখানে…পটল বংশীর হাত’টা অধৈর্জ্য হয় একটু ঝাকুনি দিল – `বল না বংশী, স্কুলে আস্ছিলি না কেন?’ খুব ক্লিষট গলা’তে ধীরে ধীরে সে উত্তর দিল – `আমার বাবা হঠাত্-ই মারা গেছেন, কারখানা’তে আকসিডেন্ট হএ ছিল, ওরা হাস পাতালে নিয়ে গিয়ে ছিল, কিন্তু বাবা বাঁচেন নি’….একটু চুপ করে নিজেকে সামলে নেবার চেষ্টা করতে করতে বংশী বলল – `আমার আর পড়াশোনা হবে না রে, পয়সা জোগাড় করতে হবে, আমাদের কেউ দেখা’র নেই, ওই কার খানা’এ মজুর’এর চাকরী যাতে পাই, চেষ্টা করছি…বাড়িতে একটু পয়সা নেই, ছোটো  ভাই বোন গুলো কী খাবে, জানি না…কত পয়সা তখন নষ্ট করেছি রে’…বংশী চোখ মুছতে লাগল হাতে’র চেট-ওর উল্টো দিকে…পটলের গলা তখন কান্নায় বুজে আসছে – `সত্যই তুই আর আসবি না রে স্কুলে?’ কোন মতে সে শুধু এই টুকু প্রশ্ন করতে পারে…বংশী আস্তেআস্তে মাথা নেড়ে `না’ বলে…পটল তার পকেটে হাত ঢোকাল, যা টাকা পয়সা হাতে ওঠে, সব মুঠো করে বংশী’র হাতে গুঁজে দেয়…আজ সকালে মা নিত্য কালী যখন টিফিন কৌটা আনতে গিয়েছিলেন, সে তার জন্ম দিনের পাওয়া বেশ কিছু জমানো টাকা-পয়সা পকেটে ভরে নিয়ে ছিল…আগেও সে এ রকম করেছে, স্কুল পালিয়ে, ক্লাস পালিয়ে বংশী’র সাথে ঘুরেছে খেয়েছে…তা বংশী হঠাত হাতে এত গুলো টাকা পেয়ে অবাক হএ তাকিয়ে থাকে…পটল আর কিছু বল বার সুযোগ না দিয়ে `আসছি রে বংশী, ভালো থাকিস্, দরকার হলে আমায় জানাস্’ বলতে বলতে পেছন ফিরে হাঁটা দেয়…হাঁটা নয়, দৌড় বলাই ভালো…অনেক দেরী হয় গেছে তার বাড়ি ফেরার জন্য…

 

অটল – পটল উপাখ্যান – VII

…এদিকে রোজ কার মতো অটল সন্ধ্যে বেলার মুখো মুখি বাড়ি’তে এসে সবে ঢুকতে যাচ্ছেন, নিত্য কালী প্রায় হাঁউ-মাউ করে ছেলে পটলে’র ফিরতে দেরী হবা’র কথা তাঁকে জানিয়েছেন…পেছনের দিকের দরজাটা’ই বেশি ব্যাবহার করেন অটল, সামনের দিক দিয়ে ঢুকতে গেলে অনেক টা বেশি হাঁটতে হয় বলে…ক্লান্ত শরীরে বসতে সুযোগ পাওয়া তো দুরের কথা  ব্যাগ টা হাত থেকে নামা ‘নোর সুযোগ তখনো হয় নি, শুনে তো তিনি অবাক! …এ রকম তো আগে কখনও হয় নি…কা’কে প্রশ্ন করবেন, কোথায় খোঁজ করতে যাবেন, ভাবতে ভাবতে পেছনের দরজাতে আওয়াজ…দু জনা’ই ঘুরে তাকিয়ে দেখেন – পটল ঢুকছে!! কিন্তু এ কী চেহারা হএছছে ছেলের, চোখ কান্নায় ফোলা, মাথা’র চুল উসকো-খুস্কো

কোনো কথা বলবার আগে পটল সোজা একেবারে অটলের পায়ে’র ‘পরে উপু ড় হয় পড়এছে -`বাবা, আমি এবার থেকে ভালো ছেলে হবো, পড়আ শোনা মন দিয়ে করব, কথা দিচ্ছি, বংশী’র বাবা’র মতো তুমি…’ কথা শেষ না করে ছেলে এবার কেঁদে ফেলে…নিত্য কালী হত্ভম্ব, অটল হতবাক্!

বিস্ময়ের ঘোর কাটিয়ে অটল নিচু হএ ছেলে’কে জোর করে উঠিয়ে দাঁড় করালেন…পটল কাঁদছে তখনো…`সত্যি বলছি বাবা, আমি তোমাদের কথা সব শুনব’…ছেলেকে এবার শান্ত করবার প্রচেষ্টা’য় মাথা’য় হাত বুলিয়ে প্রশ্ন করেন – `কী হএছে বংশীর বাবা’র?’ কোন মতে উত্তর এল – `তিন দিন আগে কার খানা’য় দুর্ঘটনা’য় মারা গেছেন হঠাত্ করে’…

ব্যাপার টা এবারে খানিক বোধগম্য হলো…`তুমি কী গিয়ে ছিলে সেখানে?’ বাবা’র প্রশ্নের উত্তরে পটল মাথা নেড়ে সম্ম্তি জানায়…তার বুকের মধ্যে এতক্ষণের জমে থাকা কথা তোড়এ বেরিএ এল `বংশী খুব কাঁদছিল বাবা, ওর মা’ও, ওদের খাবার পয়সা নেই…ও আর স্কুলে পড়তে আসবে না বাবা’ ফুঁপিয়ে উঠে জানাল পটল বংশী দুঃখ করছিল কত পয়সা আমরা দুজনে নষ্ট করেছি…আর এমন কখনও করবো না…আমি ভালো হবো বাবা, দেখো তোমরা’

ছেলে’কে বুঝিয়ে সুঝিয়ে এ বারে মুখ হাত ধুয়ে পরিষ্কার হয় আসতে বাথরুমে পাঠালেন অটল; নিত্য কালী তার ঘরে পরবার জামা কাপড় গুছিয়ে দিয়ে এসে স্বামী’র দিকে স-প্রশ্ন চোখে তাকালেন…অটলের মুখে স্বস্তির মৃদু হাসি – `আমাদের ছেলে বুঝতে শিখেছে, ভালো হবে কথা দিয়েছে, আমাদের আর দুশ্চিন্তআ থাকবে না’…মা’এর সহজ বিশ্বাসে নিত্য কালী জোর দিয়ে সায় দিলেন `নিশ্চয়ই তাই হবে আমার পটল, তুমি দেখে নিও’

 

(স্মৃতি’র অনু লেখন সমাপ্ত)

 

 

Advertisements