Dhusturi Maya (Original Story by Rajsekhar Bose; Re-told be KK)

ধুস্তুরি মায়া

 

এই গল্পো টির প্রধান চরিত্র হচ্ছেন উদ্ধব বাবু…ইনি কাঠ গোলা’র মালিক…এবং প্রচুর পয়সা তাঁর…ইনার প্রিয় সব সময়ের সাথী হচ্ছেন নরেন বাবু…ইনি অবিবাহিত…সাধারন আর্থিক অবস্থ্যা ইনার…দুই বন্ধ উর মধ্যে ভারি ভাব…প্রায় দিন একসাথে বিকাল বেলাতে হাঁটতে যান…পার্কে গিয়ে নানা গল্পো বলেন…মত বিনিময় করে থাকেন…একদিন হ্ট করে উদ্ধব বাবু কথা প্রসঙ্গে বলে বসলেন – `এখন কার ছেলে মেয়ে রা কতো ম্জা এ থাকে…প্রেম করে বিয়ে করে…ইস, আমিও যদি এরকম করতে পারতাম’…শুনে তো নরেন বাবু র চোখ কপালে…বলতে ভুলে গেছি – উদ্ধব বাবু কিন্তু বিবাহিত…ভারি গুণ সম্পন্না সুশ্রী মহিলা তিনি… উনার স্ত্রী…স্বাভাবিক নরেন বাবুর চমকে যাওয়া…নয় কী!…যাই হোক, দুজনে কথা ব্ল্তে ব্ল্তেবড়ো একটা গাছ এর তলায় এসে ব্সেছেন…এমন সময় শোনা গেলো দুটো পাখির আওয়াজ…আর কী আশ্চর্য  – তাদের কথা বেশ স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিলো –

 

`একটা বলচ্ছে – `বংগ বংগ গমা গমা গমা’…অন্য টা অমনি উত্তর দিচ্ছে – `ব্ল বঙ্গ গমই…’

 

দুই ভদ্রলোক কান খাড়া করে রইলেন…`কে কথা বলে রে নীচে বসে’…`দুটো বুড়ো তামাক খাচ্ছে, আর বক বক ক্র্ছে’

`ও, তাই বুঝি এতো বাজে গন্ধ আসছে..’ একটা পাখি বলে উঠলো…`কী নিয়ে কথা বোল্ছে রে?’  প্রশ্ন শোনা গেলো…ঝাট্পট্ উত্তর এলো – `একটা বুড়ো প্রেম করে বিয়ে করতে পারে নি বলে দুঃখ্য ক্র্ছে, আরেক টা তাকে বোঝাচ্ছে’…প্রথম পাখি বিরক্তও হয়ে পুচ করে একটু হাগু করে বসল…`বুড়ো বযসে গিয়ে ধেরে রোগে ধরেছে, হুঁ’…সায়঑ংগ কালের এই কোষঠ শুদ্ধি মাথায় পড়তে দুই বুড়ো মাথা মুছে একটু সরে বসলেন

 

ব্যাংগমা তখন ব্যাংগমী’ কে গম্ভীর গলা তে বোল্ছে-`এই বযসে কে রে ওকে বিয়ে করতে যাবে? প্রথমে তো বযস কমা বার বিদ্যা ওকে আয়ত্ত করতে হবে’…

 

দুই জনে খুব মন দিয়ে তখন শুনে যাচ্ছেন – `মেয়ে পাখি টা আবার প্রশ্ন ক্র্ল `তুমি তো জানো তা, বলে দাও না’

 

 

ব্যাংগমা খানিক চুপ করে রইলো…দুই মিত্র চুপ করে কান খাড়া করে শুনে যাচ্ছেন…`একটা মন্ত্র কোমর্ অব্দি গঙ্গা জলে ডুবিয়ে বলতে হবে’…উদ্ধব বাবু ফিস ফিস করে নরেন বাবু কে ব্‌ললেন – `শুনে নাও হে, কাজে লাগবে মনে হয়’…ওপর থেকে ভেসে এলো :-

 

`ব্যোম্ মহাদেব ধুশতুরী স্বামী…দস্তুর মতো প্রস্তুত আমি’

 

`এর সঙ্গে একটা জিনিস খেতে হবে…একটা ধুতুরা ফুলের বীজ…তাহলেই কাজ হবে…চেহারা তরুণ হয়ে যাবে’

 

`যদি আবার পুরনো চেহারা তে ফিরে যেতে চায়, তাহলে আবার অন্য মন্ত্র…

 

`ব্যোম্ মহাদেব সকল বস্তু…আগের মতো আবার অস্তু’

গঙ্গা জলে দাঁড়িয়ে এই মন্ত্র আওরালে আগের চেহারা ফিরে পাবে’

 

পাখি দের কথা বন্ধ হল…দুজনে উঠে পরলেন…উদ্ধব বাবু বলে উঠলেন `জয় মা কালী…তাহলে লেগে পড়া যাক

 

বেঞ্চের কাছে নানান ফুলের গাছ…খানিক খুঁজতেই ধুতুরা ফুলের গাছ পাওয়া গেল…উদ্ধব বাবু বীজ সন্ধান ক্র্ছেন…উত্তেজনা তে প্রায় তার নিশ্বাস বন্ধ হয়ে যাবার জোগাড়…পেছনে দাড়িয়ে নরেন বাবু ঠিক অতটা তাল মেলাতে পারছিলেন না…উনার মনের ভেতরে খুঁত খুঁত করচ্ছিল…`কাজ টা কী ভালো হচ্ছে’! এ কী বিপদেই না পরা গেছে’…এমন সময় কানে এল উদ্ধব বাবুর তাড়া – `কী হে, হলো কী তোমার?’

অগত্যা সব দ্বিধা ঝেড়ে ফেলে নরেন বাবু কে বলতে হল – `না, এই মন্ত্র গুলো মনে মনে ঠিক করে নিচ্ছি, ভুলে যদি যাই’…স্বস্তির নিশ্বাস ফেললেন উদ্ধব বাবু…নরেন বাবু কে বাদ দিয়ে কোনো কাজে তিনি বড় একটা যান না…বন্ধুর ভাব গ্তিক দেখে উনার একটু চিন্তা ধরে যাচ্ছিল…

দুজনে হাতে ধুতুরা’র বীজ নিয়ে এবার ঘাটের দিকে চললেন…পাখির কথা মতো কোমর্ জলে দাঁড়িয়ে দুরু দুরু বুকে মুখে বীজ পুরল এন…সেই মন্ত্র গুলো বলা হল…উদ্ধব বাবু ফিস ফিস করে সতর্ক কর্লেন বন্ধুকে…`শুধু প্রথম দুটো লাইন বল যেন হে, পেছনের দুটো না, কাজ হবে না তাহলে’…

কয়েক মুহুর্ত কেটে গেল…ভযে ভয়ে দুজনে একে অন্যের দিকে তাকালেন…আর কী আশ্চর্জ!…দুজনের ই চেহারা অল্‌পো বযসের কালে যেনো ফিরে গেছে…আনন্দে কিছু খন কারো মুখে কথা নেই…

জ্ল থেকে উঠতে উঠতে দুজনে ঠিক করলেন প্রথমে একটা কাছে পিঠের হোটেল এ গিয়ে উঠবেন…সেই মতো কাজ হএ গেলে নতুন জামা কাপড় পাল্টে তবে অন্য কাজ!

 

খানিক বাদে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হয়ে দুজনে হোটেল থেকে চেয়ে আনাখবরের কাগজের পাতা খুলে বসলেন…গুছিএ কাজ করা উদ্ধব বাবুর খুব পছন্দ…আর এ বিষয়ে নরেন বাবুর জুড়ি নেই…`পাতা খুলেই `পাত্র-পাত্রী চাই’ বিভাগের দিকে তার নজর গেছে – কম বয়সের উপযুক্তা পাত্রী ক’ জ্ন আচ্ছেন, তাদের মধ্যে কে সবার থেকে বেশি নজর্ কাড়েন…ইত্যাদি ইত্যাদি…আলোচনা করে একটি পাত্রীর বাড়িতে যাওয়া ঠিক হল…পাত্রী র নাম শুনে নরেন বাবু প্রথমে হক চকিএে গিয়ে ছিলেন…`রাজকুমারী স্পন্দো চ্ছণদা চৌধুরানী’…দু এক বার কিন্তু কিন্তু করে বন্ধু কে সে কথা ব্ল্তে গেলেন…কিন্তু তাতে কোনো মন দেবার দরকার বা সময় উদ্ধব বাবুর ছিলো না…

 

যাই হক, ট্যাক্সি করে নির্দিষ্ট বাড়িতে দুজনে পৌছে গেলেন…সুন্দর করে সাজানো বাইরের ঘরে তাঁদের ব্সানো হয়েছে…কাজের লোকের হাত দিয়ে মিষ্টি আর জল ও চলে এসেছে…কী উদ্দেশ্যে আসা, তা বলা হয়ে গেছে…উদ্ধব বাবুর যেন আর সবুর সই চ্ছিলও না…

এমন সময় ভেতরের ঘরের দিকের পরদা সরিএে একজন ভদ্রমহীলা এসে ঢুকলেন…সঙ্গে একজন পুরুষ…দ্বিতীয় জ্ন পরিচয় দিলেন `রাজকুমার’ বলে…তাহলে সাথের টি হচ্ছেন `স্পন্দ চ্ছণদা’…নরেন বাবু নিজের বন্ধু র দিকে নজর রেখেছেন…কিন্তু উধধব বাবুর চোখ যেন বাজ পাখির মতো রাজকুমারী কে জরিপ করে যাচ্ছে…

মনে মনে নিজেও নরেন বাবু ক্রমে সন্ত্রস্ত হয়ে উঠলেন…নিজের এই বন্ধু কে তিনি বহু বছর ধরে চেনেন…ইনার স্বভাব ভালো মতো উনার জানা আচ্ছে..সব কিছু পরখ করে, বাজিয়ে, ঘষে মেজে,  দর দাম না করে নিলে উদ্ধব বাবুর যেন প্রাণে স্বস্তি হয় না…এখানেও না সেটাই ঘটে বসে…

 

এদিকে কথাবার্তা শুরু হয়েছে…তখন বয়েস নিয়ে এরকম চলছে…`আপনার বয়েস কতো?’ রাজকুমারী ‘র উত্তর – `22 বছর’…`না, 22 হতেই পারে না, আপনার বয়েস 42 বছর হতে হবে’…মোটেই না, আমার বয়েস 22’…না 42, `না 22…এবারে হাঁটু তে চাপ্ড় মেরে উজ্বল মুখে উদ্ধব বাবুরমন্তব্য – `হতেই হবে…আমার আন্দাজ অতো ভুল হয় না..তবে আপনার কথাও থাক, আমার কথাও থাক…চলুন, আপনার বয়েস 32 ব্ছর’…ক্লান্ত গলাতে রাজকুমারী উত্তর `তাই না হয় হল’

`কাঠ গোলা’র ব্যাবসা করে…স্বভাব যাবে কই’…নরেন বাবু নিজের মনে মনে বলে উঠলেন…অবশ্যই নিঃশব্দ ভাবে…এদিকে উদ্ধব বাবু নিজের সাফল্যে খুশি হচ্ছেন…প্রশ্ন করারপরিসর বেড়ে চলেছে…`আপনি আর কী জানেন?’ এবারে `ভাই নিজে বোনের হয়ে উত্তোর দিলেন – `ভালো নাচতে জানে’…`তবে সেটা কাঁচা পোকা নৃত্য…আরশোলা ধরলে তবে গিয়ে নাচ টা আসে ভালো’…বোন ভাই কে নিশব্দে তাড়না করলেন…`আচ্ছা…আপনি কী রান্না করতে জানেন?’  এবারে আগুনে যেন ঘী পড়ল…`না, জানতে কোনো দিন চেষ্টা ও করি নি’…`কেন?, জানেন, এমন মহিলা ও আছেন, যে বা যারা একা হাতে পঁচাশ জ্নের রান্না করে দিতে পারে?’ সপাট উত্তর এল – `তাহলে একটা কেস্ট্দাসী বা কালী দাসী কাউকে ধরলেই পারেন…আমার কাছে এসেছেন কেন?’…

 

হঠাত করে যেন উধধব বাবুর মনে কী হল…তার মনে পড়ে গেল – `কালী দাসী তো আমার স্ত্রী’র নাম’…মাথায় যেন উনার খুন চেপে গেল…`কী, একটা এই ক্দিনের মেয়ে এসে আমার কালী দাসী কে অপমান কর্তে যাচ্ছে’! সব যেন গুলিয়ে গেল উনার…`নিশ্চই ধরতে যাবো, জানো কালী দাসী আমার স্ত্রী?’

 

ঘরে যেন বাজ পড়ল…`কী? আপনার স্ত্রী আছেন?’ `আছেন, আর তিনি রান্নার নামে মূর্চ্ছা যান না…জনা পঁচাশের রান্নএকা হাতে হেলায় সামলে নিতে পারেন…আর রান্না যেন অমৃত’…কথা শেষ হবার আগেই রাজকুমার বলে উঠলেন – `বেরিয়ে যান আমাদের বাড়ি থেকে, এখনই’…

 

কথা আর বাড়তে না দিয়ে নরেন বাবু `চুপ করো, চুপ করো’ বলতে বলতে উদ্ধব বাবুর হাত ধরে টেনে বাইরে চলে এলেন…চুপ আর করানো যায়! ত্খনো উদ্ধব বাবু বলে যাচ্ছেন – `আমার কালী দাসী র সঙ্গে ওই সিরিঙ্গে মেয়ে টার তুল্না করে কোন সাহসে’?

 

ট৅ক্সী ডেকে উদ্ধব বাবু কে নিয়ে সোজা ওই পার্কে চলে গেলেন নরেন বাবু…`লোহা গরম এখন, এখনই কাজ টা সেরে ফেলতে হবে’…মনে মনে এই ভেবে দুজনে সেই জ্লের ঘাটে উপস্থিত হলেন…মা কালী র নাম স্মরণ করে দুজনে জলে দাঁড়আলেন…`ঠিক মন্ত্র টা তোমার মনে আছে তো?’ উদ্ধব বাবুর প্রশ্নে মাথা নেড়ে স্ম্মতি জানালেন তিনি…আর কোমর্ জলে গিয়ে বলে উঠলেন:-

 

ব্যোম` মহাদেব সকল বস্তু…আগের মতন আবার অস্তু’

 

দুজনে চোখ বুজে খানিক সময় পার করে চোখ খুললেন…`জয় মহাদেব’ এবারে উদ্ধব বাবু ই জোর গলা এ বলে উঠলেন…`বাঁচা গেল বাবা’ – নরেন বাবুর বলে উঠলেন – `তবে তোমার আর এ যাত্রা তে প্রেম করে বিয়ে করা হল না’…

 

উদ্ধব বাবুর মুখ দেখে মনেও হল না, যে তার জ্ন্যে উনার আর কোনো মাথা ব্যাথা আছে…`চলে চল…বড় দেরি হয়ে গেচে, কালী দাসী কতো জানি ভাবছে’…হাসি চেপে মুখে গম্ভীর ভাব রেখে দুজনে পা চালালেন…মিনিট 15 বাদে নিজের পরিচিত বাড়ি টা দেখে শুধু উদ্ধব বাবুর নয়, নরেন বাবু ও স্বস্তির স্বাস ফেললেন…

 

চৌকাঠ পেরোতে না পেরোতে কালী দাসী সামনে এসে দাড়িয়েছন…`কী ব্যাপার তোমার, ছিলে কোথায় এতো খ্ন শুনি…তোমার বন্ধুর তো কেউ চিন্তা করার নেই, আমার কথা কী তোমার মনেও পরে নি?’

 

গলা র স্বরে উদ্বিগ্নভাব এনে উদ্ধব বাবু বলে উঠলেন `না গিন্নি…আজ তোমার শাঙ্খার জোরে বেঁচে গেছি…আর নরেন বাবু না থাকলে তো আমায় ফিরে পেতে না’…আগুনে যেন জ্ল পড়ল…সঙ্গে সঙ্গে সুর পাল্টে গেল গিন্নীর…`বোস বোস দুজনে…হাত মুখ ধোও তোমরা…আমি তোমাদের খাবার ব্যাবস্থা গিয়ে করছি…নরেন বাবু ও কিন্তু খেয়ে তবে যাবেন’

 

গিন্নি ভেতরে ঢুকে গেলে পরে নরেন বাবুর দিকে তাকিয়ে ঘাড় কাত করে চোখের ইশারা করলেন উদ্ধব বাবু `কালী দাসী রান্ধেন যেন অমৃত’

 

সমাপ্ত

 

 

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s