Maha Rishi Jabali and Apsara Menoka (Original story: Sri Raj Shekhar Bose; Re-Told from Memory by – KSB)

মহা ঋষি জবালি’র গল্প- প্রথম ভাগ)

মহা ঋষি জবালী’র নাম আমরা রামায়ণে পাই – যখন মহা রাজ দশরথ ছেলে রামে’র গৃহ ত্যাগ এর শোক সইতে না পেরে মারা যান, অযোদ্ধা অযোধ্যা নগরী থেকে অনেক বযস্ক এবং মুনি ঋষি এঁরা দল বেঁধে রাম কে বুঝিয়ে সুঝিয়ে ফিরিয়ে আনতে গিয়ে ছিলেন. ঋষি জবালী ছিলেন এঁদের অগ্রগন্য. স্পষ্ট ব্ক্তআ হিসেবে ইনার ভারি নাম বা দুর্নাম ছিল. যাই হোক, পরিনাম আমাদের সবার জানা. রাম কিছু তেই প্রতি শ্রুতি অনুসারে পুরো 12 বছর ব্ন বাস ইত্যাদি শেষ না করে ফিরে যাবেন না জানিয়ে দিয়েছেন. সবাই দুঃখিত মনে যে যার বাস স্থানের দিকে রওনা দিয়েছেন. ঋষি জবালী আর দ্শ জনের মতো নগরী’তে থাকতেন না. তিনি তার নিকটস্থ এক রম্য কাননে তাঁর পত্নি হিন্দ্র লিনী’র সঙ্গে সরযু নদী’র ধারে এক কুটিরে বাস কর্তেন. তিনি সেই দিকে প্থ চলতে লাগলেন…মাথায় তখন তাঁর নানা চিন্তা ঘুরছে. তিনি ভাব ছেন – `ভালা বিপদ! লোকের ভালো করতে গেলে কী হবে, ভালো কথা সে কানে নিলে তো! কোথায় বনে বনে ঘুরবে, তার থেকে সোজা গিয়ে রাম যদি ও সব ছেড়এ সিংহাসনে বসে যেতেন, কারো কোনো চিন্তা’র কিছু থাকতো না. সব কিছু সু মসৃণ ভাবে চ্ল্ত. এখন কী হবে? ভরত ভালো বটে, তবে হালের ছেলে. সে কী আর তার পিতার মতো মুনি ঋষি দের উপযুক্ত সম্মানিক ব্ন্দোব্স্ত করবে? বুড়ো রাজা দশরথ স্ত্রৈণ ছিলেন বটে, কিন্তু এ সব বিষয়ে তাঁর হত ছিল উদার’. এসব ভাবতে ভাবতে তিনি নগরের উপান্তে নদী তীরে বনে প্রবেশ করলেন…

 

এদিকে তাঁর স্ত্রী হিন্দ্র লিনী কুটিরে বসে রান্না করতে করতে স্বামীর জ্ন্যে পথ দেখ ছিলেন. তাঁর ও মাথায় নানা চিন্তা; স্বামী যে আর দ্শ জন মুনি ঋষি’র মতো নন, ভারি স্পষ্টবক্তআ, বরং দুর্মুখ বলেই তাঁর লোক সমাজে দূর্নাম…তাই কারণে অ কারণে শত্রউ তা বাঁধিয়ে তোলেন…কিন্তু কোনো পরোয়া তাই বলে স্বামীর মধ্যে আজ ও এল না…শত্রউ’র সংখ্যা বাড়ছে বলে মাথা ব্যাথা যেন কেবল হিন্দ্র লিনী’র! শুধু কী তাই! মনে ঋষি পত্নীর বড় একটা আক্ষেপ – তাঁদের কোন সন্তআন নেই; এ নিয়েও ঋষির কোন মাথা ব্যাথা’র কোন লক্ষণ নেই. কথা তুল লেই বলেন – `তাতে কী হযেছে, যখন যাকে হোক্ ছেলে মনে করে নিলেই মিটে গেল’. রুটি’র আটা মাখতে মাখতে নিজেই নিজের মনে মনে গজ রাতে লাগ্লেন – `কী বা কথা’র শ্রী!!’ তার ওপরে ত্‌থা কথিত ঋষি জন সুলভ আচার বিচার এর ধার ও ধারেন না স্বামী! উনা দের দেখলে অযোধ্যা নগরীর প্রায় সব নিষ্ঠা বতি’রা ঘৃণা’য় নাক কুঞ্চিত করে তাকান. হিন্দ্র লিনী’র মনে বড় লাগে, ঋষি বর কোন তোয়াক্কা তাতে করেন না…চিন্তার কী কিছু কম আছে? যত ক্ষণ না স্বামী গৃহে ফিরে আসেন,  হিন্দ্র লিনী’র মনে শান্তি আসে না

 

হিন্দ্র লিনী’র ব্যাস্ত হবার বা উদ্বিগ্ন থাকবার যথেষ্ট কারণ ও ছিল. বাল খিল্য মুনি’রা প্রায় দিন ই কোমর বেঁধে লড়আই করতে চ্লে আসেন এই কুটিরে. মহা ঋষি জবালী যেন মজআ পান তাদের খ্যাপা মি দেখতে. অবশ্য খুব একটা তাতে স্বামী’কে দোষ ও দেয়া যায় না. মাঝে মাঝে হিন্দ্র লিনী কেই বেশ কষ্ট করে কপট গম্ভীর ভাব বজায় রাখতে হয়…ওই খর্ব কায় চেহারা তে কী করে যে তাঁরা এত রাগ ধরে রাখতে পারেন, ভাবা যায় না. দ্যখ না দ্যাখ এসে `ভো জাবালে’ বা `রে পাপি ষ্ঠ’ বলে পইতে হাতে ধরে যখন তাঁরা স্বামী’কে `পুন্যগ নরক গামী হও’ বলে অভিশাপ দিতে শুরু করেন, হাসি চেপে রাখা নিতান্তই দায় হয়. তা হলেও শাপ শাপা ন্ত শুনে যেতে কার ভাল লাগে? বার বার?এক বার তো তিনি আর থাকতে না পেরে বলে ফেলে ছিলেন – `কেন আপনি এঁদের এত কটু বাক্য শুনে যাচ্ছেন?’ তখন জবালী এক এক করে খর্বট, খালিত আদি বাল খিল্য মুনি দের নিজের হাতে করে উঠিয়ে দাওয়া’ পর করে বেড়া’র ধারে নামিয়ে দেন. উচ্চতায় ওই মুনিরা এত খাট, যে কৌতুক বোধ হয় কিন্তু তাতে তাঁদের স্বভাবে রাগের মাত্রা কিছু কমে নি ভগ বান এর ক্রিপা’য় বন বাসী আদি বাসী ‘রা সবাই ঋষি জবালী’কে দেবতা’র মতো মান্য করে, ভক্তি করে…তাই খানিক স্বস্তি…প্রায় তারা বরাহ, বন্য মুরগি বা হরিণ শিকার করে প্রচূর পরিমানে মাংস দিয়ে যায়; লক্ষ্য় রাখে, খোঁজ খবর নেয়, সেটাও কম বড় কথা নয়

 

যত ক্ষণে জবালী এসে উপস্থিত হচ্ছেন আর স্ত্রী হিন্দ্র লিনী’কে সে দিনের সমস্ত ঘটনা বর্ণনা করছেন, আর একটা জায়গাতে ঋষি জ বালী’কে নিয়ে বেশ চর্চা শুরু হচ্ছে…সেটা হচ্ছে স্বর্গ লোকে…বালখিল্য ঋষি দের থেকে অন্য ঋষি রা, তাঁদের থেকে আরও পাঁচ জনা – আর এ রকম ভাবে যেতে যেতে সেটা দেবতা’দের কানেও পৌঁছল…দেব রাজ ইন্দ্র এতে ভারি দুর্ভাবনায় পড়লেন…অবশ্য এটা তাঁর স্বভাব…কারণ সব সময়েই তাঁর চিন্তা কেউ না এসে তাঁর এত সাধের ইন্দ্রত্ব কেড়ে নেয়…কেন জাবালী বনের মধ্যে অন্য ঋষি দের থেকে মূল নগরী থেকে দূরে বস বাস করে চ্লেছেন? ব্যাপার টা কী সন্দেহ জনক নয়? তার ওপরে জবালী আবার তথাকথিত লোকাচার বা আপাত ভড়঑ংগ এর ধার ধারেন না…ইন্দ্র নড়ে চড়ে বস্লেন…কিছু একটা ব্যবস্থ্যা করা চাই-ই চাই
…সামনে দাঁড়ান সারথি এবং সখা মাতলি’র দিকে তা কালেন ইন্দ্র – `কী করা যায়!’ মাতলি একটু ভেবে বল লেন – `কোন অপ্সরা’কে পাঠানো যায় না? ঊর্ব্শি?’ ইন্দ্র বিরক্ত মুখে হাত নাড়লেন – `সে আর যাচ্ছে! সে বলেই দিয়েছে – ম্র্ত্য লোকে যাওয়া আসা তার আর পোষায় না…ভারি গুমর আজকাল তার’…`রম্ভা’ কে?’ মাতলি’র দুই নং প্রস্তাবেও দেব রাজের মুখের হতাশ ভাবের বিশেষ পরিবর্তন হল না- `সে তো অ স্টা ব্ক্র মুনীর কাছে গেছে…তিনি কেন জানি না রাগের চোটে আবার বেঁকে গিয়ে ছিলেন তাই তাকে পাঠাতেই হল’…হতাশ হয় এ দুজনেই যখন আর উপায় ভাবছেন, এমন সময় দ্বারী এসে সংবাদ দিল – `মহা মুনি নারদ দরশন প্রার্থী’…`এ ত মেঘ না চাইতেই জল…সা গ্রহে দেব রাজ সোজা হয়এ বস লেন – `এখনি তাঁকে আদরের সঙ্গে নিয়ে এস’…

 

নারদ এসে প্রাথমিক কথা বার্তা’র পরে ইন্দ্র’র মুখের দিকে তাকিয়ে বুঝতে পেরে ছিলেন তিনি খুব চিন্তা’য় আছেন…কারণ জানতে চাইলেন…সংক্ষেপে ইন্দ্র তাঁর দুশ্চিন্তআ’র কারণ জানালেন…নারদ যা তাতে প্রস্তাব করলেন, তাতে চিন্তা’র মেঘ কেটে গিয়ে আশার আলো ফুটে উঠতে দেরি হল না দেব রাজের মুখে চোখে…নারদের প্রথম প্রস্তাব ছিল – `খুব বেশি পরিমান বন্য মুরগি, বরাহ, হরিণ আদি’র মাংস, বেশ কিছু হাঁড়ি গব্য ঘৃিত ও সু -প্ক্ক মিষ্টান্ন ওই মহা ঋষি’র কুটিরে ভেট হিসাবে পাঠান; মাংস যেন বেশ ভাল মাপে যায়, কারণ – `ঋষি বড়ই মাংসাশী’! তার পরে কোন সুন্দরী অপসরা ‘ কে সঙ্গে পাঠাতে হবে, ব্যাস’…একটু কিন্তু কিন্তু মুখে ইন্দ্র নারদ কে এবারে সে বিষয়ে সমস্যা’র কথা জানালেন…নারদ তাতে কান ই দিলেন না – `তাতে কিচ্ছু দোষ হবে না, ওই ঋষি’র জন্য খুব কম বয়সের কাউ কে দরকার নেই; উনি তো বযস্ক, একটু গিন্নি বাননি’ গোছের কা উকে পাঠালেই হবে, কেন – ঘৃিতা চি’কে পাঠাও না’…আর কোন সমস্যা রইল না…প্রস্তাব মতো জিনিষ পত্র আর সঙ্গে ঘ্রিতা চি’কে পাঠানোর কাজ ত্বরান্বিত করতে ইন্দ্র মাতলি’কে পাঠআ লেন

 

 

মাতলি দেব রাজ ইন্দ্রে’র আদেশ অনুসারে উপযুক্ত পরিমানে রসদ সংগ্রহ করে, বাহক দের প্রস্তুত হতে বলে ঘ্রিতাচি অপ্সরা’কে খবর দিতে গেলেন…বযস্কা একদা সুন্দরী শ্রেষ্ঠ-আ ঘ্রিতাচি এত দিন পরে স্বয়ং দেব রাজের কাছ থেকে বিশেষ কোন কাজে নিযুক্ত হবার আনন্দে  প্রসন্ন চিত্তে দ্রুত হ্স্তে প্রয়োজনীয় প্রসাধন সেরে নিলেন…তাঁকে রওনা করা নোর সময় মাতলি মনে করে ঋতু রাজ ব্‌সন্ত এবং কামদেব দু জনা’কেই সাথে প্রচ্ছ্ন্ন থেকে সাহায্য কর বার জ্ন্য পাঠানো মনস্থ করলেন…সব দেখেশুনে খুশি মনে খাদ্য বস্তু বহন কারী শকট আর ঘ্রিতাচি’ দের `দুর্গা দুর্গা’ বলে রওনা করিয়ে দিলেন মাতলি…তার পরে ইন্দ্র’কে সে খবর তা দিতে গেলেন…এখন শুধু অপেক্ষা!

 

ইতি মধ্যে জবালী তাঁর কুটিরে ফিরে এসেছেন…স্ত্রী হিন্দ্র লিনী’র অনুযোগ উপ যোগ আদির উত্তরে দেরী’র কারণ স-বিস্তারে বুঝিয়ে বলেছেন…দ্বিপ্রহর’এর খাওয়া দাওয়া সমাপনের পর সরযু নদী’র ধারে তাঁর প্রিয় স্থান টিতে ছিপ হাতে নিয়ে মাছ ধরতে বসেছেন; সবে একটু সময় গেছে, এমন সময়ে তিনি চার পাশে যেন কিছু ভাল রকমের পরিবর্তন’এর আভাস পেলেন; কী ব্যাপার, তা ঘুরে তাকিয়ে দেখতে গেলেন; প্রথমেই চোখে পড়ল – সুন্দরী এক বরাঙ্গনা সামনে নৃত্য রতা, খানিক দূরে অনেক গুলি শকট দাঁড়ান, তাদের থেকে গব্য ঘৃত, মিষ্টান্ন ও অন্যান্য নানান সুখাদ্যের ঘ্রাণ’এ জায়গাটা ভরে উঠেছে…শুধু তাই নয়, আসে পাশের প্রকৃতি যেন কী জাদু মন্ত্রে পাল্টে গেছে…ঘন বর ষআ কালীন মেঘ কোথায় যেন পালিয়েছে, বসন্তের মৃদু মন্দ বাতাস আর কোকিল ‘এর ডাকে চার দিক মুখরিত  `ব্যাপার কী’? ধিমান জবালী’র একটু চিন্তা কর তেই সব রহস্য পরিস্কার হয় উঠল…তিনি হাসি মুখে দিব্যাঙ্গনা’র দিকে তাকিয়ে তার নৃত্য দেখতে লাগ্লেন

 

ঘৃিতাচি খুব বিভঙ্গ সহ্‌কারে যেন আপন মনে নেচে যাচ্ছেন – এমন একটা ভাব রাখলেও মূলতঃ তাঁর নজর ছিল ঋষি জবালী’র দিকেই; তিনি এ দিকে তাকিয়েছেন, আর তাঁর নৃত্য কলা দেখে যাচ্ছেন দেখে অপসরা মনে মনে খুব প্রীতি লাভ করলেন; কিন্তু নাচ না থামিএ আরও কলা-কৌশল দেখিয়ে যাচ্ছিলেন…এবারে স্বয়ং জবালী তাঁকে সম্বোধন করলেন – `অয়ি নৃত্য রতা সুন্দরী, তুমি তোমার নৃত্য সংবরণ করো; এই পাথর বিছানো জায়গায় যদি একবার প্দ-স্খলন হয়, তাহলে তোমার ওই কোমল অঙ্গের একটি অস্থি’ও অ-বিকৃত থাক্ বে না’…উত্তরে ঘৃিতাচি যেন কতো কুন্ঠআ আর লাজুক ভাব কাটিয়ে মিষ্টি হেসে বল লেন – হে ঋষি বর, আমি তোমার রূপে গুণে মুগ্ধ; তুমি আমায় নিজের করে নাও…আমার যা আছে, এই শকট গুলি, তাতে ভরা ঘৃিত, মিষ্টান্ন ও মহার্ঘ মাংস ইত্যাদি সব-ই তোমার…এখন তুমি যা উচিত মনে কর’…কথা অ-সমাপ্ত রেখে অপ্সরা আবার নৃত্য আরম্ভ করলেন…উত্তরে জবালী তাঁকে জানালেন যে, তিনি বিবাহিত এবং তাঁর স্ত্রী হিন্দ্র লিনী বরতমান, তাই ঘৃিতচি’র বাসনা পূর্ণ করতে তিনি অ-সমর্থ…কিন্তু তিনি খুব হ্রিষ্ট যে এত সব খাদ্য সামগ্রী তাঁর ব্যাবহারের কারনে এসেছে, সেজন্যে তিনি আন্তরিক ধন্য বাদও জানালেন…

 

কিন্তু এতে অপ্সরা মান বেন কেন? তিনি নাচ থামিএে দিয়ে এবার অন্য দিক থেকে চেষ্টা শুরু কর লেন – `ঋষি বর! তোমার স্ত্রী নিশ্চয এখন  বৃদ্ধা, এদিকে আমার দিকে তাকিয়ে দেখ – আমি চির স্থির যৌবনা, সুন্দরী, তাঁকে ত্যাগ করে আমার বাহূ’তে এস, কোথায় তিনি, আর কোথায় আমি’!…

 

হাসিমুখেই জবালী তাঁকে এবারে বল লেন- `হে সুন্দরী, কিছু মনে কোর না, তুমি ও কিন্তু নিতান্ত কচি খুকিটি নও…তোমার গালের লোধ্র রেণু’র প্রলেপ ভেদ করে ও কিসের দাগ বোঝা যেন যাচ্ছে? তোমার দনন্ত পংক্তি’র মধ্যে মধ্যে ও রকম জায়গা খালি কেন? আর এ সবের থেকেও বড় কথা – যদি তুমি আমার স্ত্রী’র নজরে পড়, তোমার সমূহ বিপদের আশঙ্কা আছে…তুমি আর কাল ক্ষেপ না করে তোমার বাস স্থানে প্রত্যাবরতন করো, নইলে’…’তাঁর চেহারা’র খুঁত ঋষি’র চোখে ধরা পড়ে যাওয়াতে অপ্সরা ক্ষুন্ন হলেন; তাঁর এত রকমের প্রলভন’এও জবালী যে এত টুকুও বিচলিত হন নি, তা দেখে উনার রাগ ও হতে লেগেছে; স-রোষে তিনি জানালেন – `মোটেই তা নয়, অনেক দূর থেকে যাত্রা করে আসার ক্লান্তি’তে আমায় তোমার এমন লাগছে, যাই হোক, আমার বাকি নৃত্য দেখতে দেখতে তুমি আমার প্রস্তাব আরেক বার বিবেচনা করে দ্যাখো, এমন সুযোগ আর পাবে না’ – বলেই আবার লীলাইত ভঙ্গিমায় নাচ শুরু করে দিলেন

 

অপ্সরা ঘ্রিতাচি’র আবার নাচ শুরু করতেই একটা কান্ড ঘটে গেল; কোথা থেকে হিন্দ্র লিনী ছুটে এসে সপাং সপাং শব্দে তার পিঠে তাঁর নিত্য ব্যাবহার’এর ঝাঁটা খানা মারতে শুরু করে দিয়েছেন…নাচ তো মাথায় উঠে গেছে…ঘ্রিতাচি তত ক্ষণে রোদন করতে আরম্ভ করে ছেন, কিন্তু হিন্দ্র লিনী’র হাত থাম বার নাম নেই…

 

আসলে হিন্দ্র লিনী আড়াল থেকে কিছূ ক্ষণ ধরেই ব্যাপার স্যাপার লক্ষ্য় করে যাচ্ছিলেন; ঋষি যখন মাছ ধরতে আসেন, উনি তাঁর নিত্য অভ্যাস মতো একটু দুপুর বেলা গড়ইয়ে নিতে গিয়ে ছিলেন…শকট গুলি আসার শব্দে আর নানা খাদ্য দ্রব্যের সু-ঘ্রাণে উনার ঘুমের ভাব কেটে গিয়েছিল…কে এল শকটে করে, খাবার এর গন্ধ এই বিজন বন ভূমি’তে আসছে কোথা থেকে – এই সব দেখতে কৌতুহলী হএ তিনি বাইরে বেরিয়ে আসেন…সুন্দরী এক মহিলা হাস্য লাস্য সহ কারে তাঁর স্বামীকে নাচ দেখিয়ে মন রঞ্জনের চেষ্টা’য় নিরতা দেখেই উনা’র মাথা গরম হএ যায়…তাই ঝাঁটা হাতে উনি (আর থাকতে না পেরে) তেড়ে বেরিয়ে পড়ে ছিলেন…

 

প্রথম চমক টা কাটতে যতটুকু দেরী…ঋষি বর তাড়াতাড়ি এগিয়ে এসে স্ত্রী’র হাত চেপে ধরে ছেন – `প্রিয়ে, স্থীরা ভব! ইনি স্বর্গ থেকে আসা অপ্সরা’…’ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠে ঘ্রিতাচি বলে উঠেছেন – `আমি ঘ্রিতাচি অপ্সরা’…হিন্দ্র লিনী স-রোষে হাতের ঝাঁটা খানা আবার তুলে বল্ছেন – `হলা দ্গ্ধআননী নির্ল্জ্জআ ঘেংচি, ভালো মানুষ পেয়ে আমার স্বামী’কে ভুলা তে এসেছিস’! তার পরে স্বামীর দিকে তাকিয়ে স-ক্ষোভে বল লেন – `হে আর্জ পুত্র, তোমারই বা কী প্রকার আক্কেল, যে তুমি নির্জনে এই উত্-কপালি বিড়আ-লাক্ষ-ই’র সঙ্গে রসা লাপে ব্যাস্ত হএ পড়েছ?’ অনেক কষ্টে স্ত্রী’র রাগ ঠান্ডা করতে সক্ষম হলেন জবালী…রোদন কারিনী’কে শান্ত হতে বলে দু-জন কে কুটির’এর প্রাঙ্গনে নিয়ে এলেন…কাঁদতে কাঁদতে ঘ্রিতাচি তখন বল ছেন – `হা হতোস্মী! কখনও আমার এ অবস্থ্যা আগে হয় নি’…ইতি মধ্যে হিন্দ্র লিনী স্বামীর কাছে সব ভেতরের ব্যাপার জানতে পেরে (যে ঘ্রিতাচি নিজের ইচ্ছেয় নয়, ইন্দ্রে’র আদেশে এসে ছিলেন) – সদয় হএ অপ্সরার পিঠে ইঙ্গুদি তৈল মালিশ করে দিয়ে ছেন

 

খানিক বিশ্রামে’র পরে মিষ্ট বাক্যে অপ্সরা’কে তুষ্ট করে ঋষি বিদায় দিলেন; যাবার সময় তিনি হাসি মুখে দেব রাজ ইন্দ্র’কে তাঁর তরফ থেকে সদা আশ্বস্ত থাকতে বলে দিলেন – `আমার কোনো রকমেই ইন্দ্রত্ব বা অ-সময় স্বর্গ লাভের কোন বাসনা নেই; আর এত রকমের খাদ্য সামগ্রী’র হেতু তাঁকে আমার বিশেষ সাধু বাদ জানিও’; ঘ্রিতাচি অপ্সরা অন্তরীক্ষ পথে স্বর্গে রওয়ানা দিলেন…গোলমালের শুরু তেই ঋতুরাজ ও মদন দেব পিঠ-টান দিয়ে ছিলেন…মদন দেবের দ্বিতীয় বার ভস্ম হবা’র  মতোকোন রকম আর বিপদ জনক কাজে অংশ নেবার সাহস ছিল না…অবশ্য সে জ্ন্য তাঁকে দোষ’ও দেওয়া যায় না

 

 

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s